Domain ও Hosting কী? নতুনদের জন্য সহজ ব্যাখ্যা

একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে আগে যে দুটি  জিনিস  প্রয়োজন তা হল Domain ও Hosting.এই দুইটি জিনিস ছাড়া  একটি ওয়েবসাইট কল্পনা করা যায় না। বর্তমান ডিজিটাল যুগে একটি ওয়েবসাইট  ই-কমার্স, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ও নিজের ব্যবসা পরিচিতির জন্য একটি  ভালো মানের ওয়েবসাইট থাকা অবশ্যক।আরে ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য  সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দুটি জিনিস হল Domain ও Hosting.




একটি Domain ও Hosting একসাথে কাজ করে একটি ওয়েবসাইটকে ইন্টারনেটের সবার জন্য উন্মুক্ত করে। তাই একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে  Domain ও Hosting সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা দরকার। 


Domain কি?  


Domain হলো একটি নাম বা ঠিকানা, যেখানে ব্যবহারকারী একটি ঠিকানার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট একটি পেইজে প্রবেশ করে। আমরা যেমন কোন একটা জায়গাতে যাওয়ার জন্য কোন একটা  ঠিকানা ধরে আমরা  যায় ঠিক তেমনি ডোমেন হলো একটা ঠিকানা। 


যেমন:Google.com বা Facebook.com এখানে google হলো একটি নাম  আর Com  হলো  এক্সটেনশন। আপনি যদি কোন এক ঠিকানায় যেতে চান তাহলে আপনাকে  একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা নিতে হবে এবং সেটি  আপনার ওয়েব ব্রাউজারে  টাইপ করে সে ঠিকানা প্রবেশ করতে পারবেন। 


Domain কিভাবে কাজ করে?


Domain হলো একটি নাম যেখানে মানুষ  কোন একটা নির্দিষ্ট ঠিকানার মাধ্যমে ওয়েব ব্রাউজার এর সাথে  অ্যাড্রেস বাড়ে  গিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে ঠিকানার মাধ্যমে প্রবেশ করে। আপনি যখন আপনার ওয়েব ব্রাউজারে  কোন ডোমের নাম লিখে সার্চ করুন তখন পর্দার আড়ালে  খুব দ্রুত কয়েকটি কাজ ঘটে যথা :


 ওয়েব ব্রাউজারে আপনার ডোমেইন নাম লিখুন Ex:Google.com 

⬇️

তারপর সরাসরি আপনার ডোমেইন নামটি  DNS সার্ভারে যায়। 

⬇️

DNS সার্ভারে গিয়ে একটি অনুরোধ করে। 

⬇️

DNS অনুরোধটি IP অ্যাড্রেসে যায়

⬇️

IP  এড্রেস থেকে সরাসরি হোস্টিং সার্ভারে কানেক্ট করে। 

⬇️

সার্ভারে কারেন্ট হওয়ার পর আপনার মোবাইল বা ল্যাপটপে , যে পেজটি দেখা যায় তাই হলো ওয়েবসাইট। 



Domain কত  প্রকার ও কি কি?



Domain মূলত তাতের এক্সটেনশন এর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। একটি ডোমেন সাধারণত তাদের অনেক  প্রকারভেদ করে ভাগ করা যায় যেমন :


১) TLD-Top Level  Domain

একটু ডোমেইনের তাদের শেষ অংশকে টপ লেভেল ডোমেন বলে। ইন্টারনেটের জগতে এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং  সাধারণ ক্যাটাগরি। কেননা মানুষ সবচাইতে টপ লেভেল ডোমিন ব্যবহার করে। এই প্রবলেম কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 



gTLD: Generic Top Level Domain:

এই লেভেলের ডোমেইন সবচাইতে বেশি ব্যবহার হয় এবং যে কেউ চাইলেই সহজেই এই ডোমিন কিনতে পারে। 


-.com: Commercial Domain: সবচাইতে ব্যবহার হয় ব্যবসার কাজে।  ব্যবসার পরিচিতির জন্য যে কেউ যেকোনো সময় এই ডোমেইন কিনতে পারে। বর্তমানে প্রায় সব ক্ষেত্রে এই ডোমিনের  ব্যবহার রয়েছে 


-.Net: Network Domain: এই ডমিন এক্সটেনশনটি নেটওয়ার্ক বা  প্রযুক্তি ভিত্তিক সাইটের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। মূলত. Com এর পরেই এই ডোমেইন  এক্সটেনশন টি সবচাইতে জনপ্রিয়। 



-info : information : টেক জগত বা  তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইটের জন্য এই ডোমিন এক্সটেনশনটি  বেশি পরিচিত। 



২) ccTLD: Country Code Top Level Domain: এগুলো কোন নির্দিষ্ট দেশ বাও অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত থাকে।  এই ডোমেইন এক্সটেনশনটি মূলত ২ অক্ষরে হয়ে থাকে।যেমন:

.bd: বাংলাদেশ 

.in (ভারত)

.sg( Singapore) 


৩) sLTD: Sponsor Top Level Domain:

এই ডমিন এক্সটেনশন টি মূলত কোন সংস্থার জন্য বরাদ্দ থাকে। কোন দেশের সরকার বা তার সংস্থায় এই ডোমেন এক্সটেনশন টি ব্যবহার করে। যেমন: 


.gov: সরকারি ওয়েবসাইটের জন্য। 

.edu: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য। 


) Sub-Domain:  এই ডোমিন এক্সটেনশন টি মূলত  একটি ওয়েবসাইটের  মেইন ডোমিনের সাথে কিছু অংশ যোগ করে এই ডোমেনটি  তৈরি করা হয়। যেমন: support.one8bd.com  , 

এখানে one8bd.com হলো মেইন ডোমেইন যার Support হলো তার সাব-ডোমেইন।




Domain এর বিভিন্ন অংশ:

একটি ডোমেনের  প্রধান দুটি অংশে থাকে Name ও Extension.


Name: একটি ডোমেইন হলো One8bd.com যার One8bd হলো Name.এটি হলো ব্র্যান্ড বা ওয়েবসাইটের মূল নাম। 



Extension: একটি ডোমেইনের নামের শেষ অংশ  যেমন:. Com  . net  . info


উদাহরন:  ডোমেনকে যদি আপনি একটি বাড়ির সাথে তুলনা করেন তাহলে, একটি বাড়ি যেখানে  তার ঠিকানা থাকে  তাই হলো ডোমেইন । 




ভালো Domain Name কেমন হওয়া উচিত?


একটি সুন্দর, সহজ ও অর্থপূর্ণ ডোমেইন  নাম আপনার ওয়েবসাইট বা ব্র্যান্ডের সফলতার পিছনে বড় ভূমিকা পালন করে। তাই ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে একটি ভালো ডোমেইনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজে কিছু   টিপস দেওয়া হল যাতে করে আপনি আপনার একটি ভালো ডোমেইন নাম বাছাই করতে পারেন । 


১) সহজ ও মনে রাখার মত : 


একটি সহজ ও মনে রাখার মত ডোমেইন নাম আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডোমেন নেম বাছাই করার ক্ষেত্রে এমন  নাম নেওয়া দরকার যাতে করে মানুষ একবার দেখে ও শুনে মনে রাখতে পারে। 


২) ছোট নাম বাছাই: 


ডোমেইন নেম সাধারণত ২-৩ অক্ষরের বা ৬-১০ অক্ষরে নেওয়া ভালো। মানুষ যেন একবার দেখে তা মনে রাখতে পারে। 



৩). Com এক্সটেনশন ব্যবহার করুন:


 বর্তমান বাজারে মানুষগুলো এই . in . net  বা . xyz প্রাধান্য থাকলেও  আপনি  . com এক্সটেনশন  দিয়ে শুরু করতে পারেন। কারণ এই ডোমিন নেম এক্সটেনশনটি এখন সবচাইতে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত। 

মানুষ এখন যেকোন ওয়েবসাইটের নামের পরে . com  এক্সটেনশন টি ব্যবহার করে অভ্যস্ত। 



Domain কোথা থেকে কিনবেন:


একটি ভালো মানের ওয়েবসাইটের জন্য একটি ভালো ডোমেইন নাম দরকার। একটি ডোমিন কিনার জন্য ইন্টারন্যাশনাল  ওয়েবসাইট বা বাংলাদেশের লোকাল কিছু ডোমিন প্রোভাইডার থেকে নিতে পারেন। 


১) আন্তর্জাতিক ডোমেইন নেম  রেজিস্টার কোম্পানি :


বিশ্বজুড়ে কিছুর জন্য প্রিয় ও নির্ভরযোগ্য কিছু ডোমিন প্রতিষ্ঠান। 


১) Namecheap: এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ডোমেইন নেম প্রোভাইড। সারা বছর বিশ্ব জুড়ে অনেক দেশ ও কোম্পানি এই  প্রোভাইডার থেকে ডোমিন ক্রয় করে থাকে।  ঈদের ডোমেনের দাম তুলনামূলকভাবে কম ও সাশ্রয়ী, রিনিউয়াল ফি কম।



২) Dynadot: এই ডোমেইন নেম রেজিস্টার কোম্পানি  খুব জনপ্রিয়। বাংলাদেশ থেকেও অনেকেই এই ডোমেইন প্রোভাইডার  থেকে ডোমিন কিনে থাকে । 


৩) Porkbun: এটি বর্তমানে ওয়েব ডেভলপারদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি প্ল্যাটফর্ম। এদের ডোমিন এর দাম কম ও রিনিউয়াল ভিউ কম। 


৪) Godaddy: এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডোমিন নেম রেজিস্টার কোম্পানি। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ডোমিন নেম রেজিস্টার হয় এই কোম্পানি থেকে। তবে মনে রাখতে হবে এই কোম্পানিটি প্রথম বছর কম দামে ডোমিন নেম বিক্রি করে, কিন্তু এদের রিনিউয়াল ফি একটু বেশি। 



৫) Google Domains: এটু বেশি জনপ্রিয় তবে এটি  বর্তমানে Squarespace  পরিচালনা করছে। 


আরও পড়ুন 

👉বর্তমান সময়ে সবচেয়ে কম দামে .Com ডোমেইন কিনুন সেরা ৩ ওয়েবসাইটে


Hosting কি? 


সহজ ভাষায় বলতে গেলে Hosting হচ্ছে একটি জায়গা যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের ফাইল গুলো (ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ডকুমেন্ট)  রাখা হয়। আমরা যেমন আমাদের মোবাইলে ছবি, গান, ভিডিও রাখার জন্য একটি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করি ঠিক তেমনি   একটি ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো রাখার জন্য   জায়গার প্রয়োজন হয় যাকে হোস্টিং বলে। 


উদাহরণ : আপনি একটি বাড়ি করলেন,  এই বাড়িতে যে জায়গা নিয়ে  তৈরি হয়েছে সেই জায়গা কে হোস্টিং এর সাথে তুলনা করা হলো। 



Hosting কিভাবে কাজ করে?


Hosting মূলত কাজ করে একটি শক্তিশালী কম্পিউটার বা  সার্ভারের মাধ্যমে যা সব সময় ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকে। আপনার ওয়েবসাইটের সব ফাইলগুলো একটি সার্ভারে বা হোস্টিংয়ে রাখা হয় তারপর কেউ যদি ডুমির নাম দিয়ে সার্চ করলে যে পেজটি দেখা যায় সেই পেজটি মূলত  হোস্টিং  আওতাধীন থাকে। হোস্টিং   যেভাবে কাজ করে তা নিজে দেওয়া হলো :


১) ওয়েবসাইটের  ফাইলগুলো জমা রাখা : আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে যাবেন তখন অনেকগুলো ফাইল দরকার পড়ে (Html,css, ছবি,ভিডিও, Doc) ইত্যাদি।  এই ফলগুলো রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন হয়। আপনি বাংলাদেশের কোন এক হোস্টিং কোম্পানি থেকে কিছু জায়গা কিনে এই ফাইলগুলো সংরক্ষণ করতে পারেন। 



২) ডোমেইন নামের সাথে কানেকশন তৈরি:  শুধু আপনার কাছে পোস্টিং থাকলেই  আপনার ওয়েবসাইট  কেউ খুঁজে পাবে না বরং দরকার  একটি ভালো মানের ডোমেইন।এই ডোমের নামটি হোস্টের সাথে সংযুক্ত করা হয়, যাতে করে আপনার ডোমেইন নামটি  কোন ব্রাউজারে গিয়ে টাইপ করলেই  আপনার নির্দিষ্ট পেজটি পাওয়া যায়। 


৩) ইউজারের রিকোয়েস্ট : যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে হোস্টিং এবং ডোমেইনের  কানেক্ট করবেন। তখন একটি ব্রাউজার মাধ্যমে আপনি আপনার  ওয়েবসাইটটি লিখে সার্চ করেন, তখন আপনারই সার্চ করা অনুরোধটি নির্দিষ্ট হোস্টিং সার্ভার সাথে যোগাযোগ করে যেখানে আপনার ফলগুলো রাখা আছে। 


৪) ওয়েবসাইট দেখানো : সার্ভারটি যখন আপনার  অনুরোধটি প্রসেস করে, তখনও তাই ইন্টারনেটের রাখা ফাইলগুলো ব্রাউজারে পাঠিয়ে দেয়। ব্রাউজার সেই অনুরোধরের ফাইলগুলো একটি সুন্দর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে  আপনাকে দেখায়। 



Hosting কত প্রকার ও কি কি? 


একটি ওয়েবসাইটকে সুন্দর উন্নত ও  দ্রুতগতি করতে হোস্টিং সার্ভারের গুরুত্বপূর্ণ  । ওয়েব হোস্টিং মূলত এর ব্যবহার, ওয়েবসাইটে ট্রাফিক ও বাজেটের উপর ভিত্তি করে অনেক ধরনের হয়ে থাকে। নিচে ৪-৫ প্রকারের হোস্টিং নিয়ে কথা বলা হলো :


১) শেয়ার্ড হোস্টিং : একটি নির্দিষ্ট হোস্টিং যেখানে  কয়েকজন মিলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট হোস্ট করে থাকে।এই হোস্টিং সার্ভার  মূলত একটিমাত্র সার্ভার  থাকে  যেখানে বহু সংখ্যক ওয়েবসাইটের ফাইল রাখা হয়। এই হোস্টিংটি নতুনদের জন্য ভালো ও কম খরচে আপনার ওয়েবসাইট পোস্টিং করতে পারবেন। মাঝে মাঝে  আপনার ওয়েবসাইট স্লো হতে পারে 




২) VPS হোস্টিং : Virtual Private Server এ সার্ভারকে ভার্চুয়ালি কয়েক ভাগে ভাগ করা যায় এবং প্রতিটি ব্যবহারকারীকে আলাদা আলাদা রিসোর্স করে দেওয়া হয়। যাতে করে তাদের ওয়েবসাইট স্লো না হয় এবং অনেক দ্রুতগতিতে ফল সংরক্ষণ করা যায়।এই হোস্টিংটি অনেক ব্যয়বহুল।


৩) Dedicated Hosting :এটি এমন এক হোস্টিং যার শুধুমাত্র  একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের জন্য নির্ধারণ করা থাকে। এই হোস্টিং চালাতে অনেক ব্যয়বহুল এবং খরচ সাপেক্ষ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ই-কমার্স এর জন্য এই হোস্টিং নেওয়া ভালো। 



৪) Cloud Hosting: এই হোস্টিংয়ে একাধিক সার্ভার কাজ করে ওয়েবসাইট চালায়। মনে করেন আপনি একটি হোটেলে  থাকতে গেছেন কিন্তু  হোটেলের রুম খালি নেই  হোটেল মালিক তাদের অন্য এক শহরে বা অন্য শাখায় আপনাকে থাকতে দিল। ক্লাউড হোস্টিং ঠিক এমনই। 




Hosting কোথা থেকে কিনবেন :


হোস্টিং  মূলত দুই জায়গা থেকে কেনা যায়, আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও  বাংলাদেশী হোস্টিং প্রোভাইডার থেকে। আপনার হোস্টিং  এর ধরন, বাজেট ও প্রেমের পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে হোস্টিং  কেনা ভালো। 



আন্তর্জাতিক কোম্পানি : আপনার কাছে যদি আন্তর্জাতিক প্রেমেন্ট পদ্ধতি থাকে  তাহলে আন্তর্জাতিক কোম্পানি থেকে কেনায় ভালো। 


১) Hostinger: বর্তমানে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত  ও জনপ্রিয় হলো হোস্টিংগার। খুব কম দামে আপনি বাজেট ফ্রেন্ডলি হোস্টিং পাবেন এই কোম্পানি থেকে তাছাড়া হোস্টিং এর সাথে ফ্রি SSL তো থাকছে। 


২) Namecheap: ডোমেনের  জন্য জনপ্রিয় হলেও হোস্টিং প্রোভাইডার হয়ে বেশ জনপ্রিয় ও সাফল্য অর্জন করেছে এই কোম্পানি। আপনার বাজেটের মধ্যে বিভিন্ন পোস্টিং পেয়ে থাকবেন এই সাইটে। 


৩) SiteGround: আপনার বাজেট যদি বেশি হয় এবং সর্বোচ্চ  সিকিউরিটি ও প্রিমিয়াম পারফরমেন্স চান তাহলে সাইডগ্রাউন্ড আপনার জন্য। বড় কোন বিজনেস বা ই-কমার্সের জন্য  এই হোস্টিং প্রোভাইডার আপনার জন্য পারফেক্ট। 


৪) Bluehost: এটি মূলত ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য খুবই  ভালো একটি হোস্টিং প্রোভাইড। এই হোস্টিং কোম্পানিটির নতুনদের জন্য খুবই ইউজার ফ্রেন্ডলি। 


বাংলাদেশী হোস্টিং প্রোভাইডার : 


আপনার নিজের কাছে যদি কোন আন্তর্জাতিক পেমেন্ট পদ্ধতি বা ভার্চুয়াল কার্ড না থাকে। আপনি যদি বাংলাদেশী লোকাল কোন  পেমেন্ট পদ্ধতির যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট ও বিভিন্ন লোকাল ব্যাংকের কার্ড দিয়ে  প্রেমেন্ট করতে চান তাহলে বাংলাদেশে হোস্টিং প্রবাদের আপনার জন্য। জনপ্রিয় কিছু বাংলাদেশ হোস্টিং প্রোভাইডার হলো Exonhost,Dianahost,Hostmight. 



হোস্টিং নেওয়ার আগে যা যা দেখা উচিত :


১) SSD : সব সময় চেষ্টা করবেন পোস্টিং প্রবায়দার কোম্পানি থেকে SSD যুক্ত হোস্টিং নিতে। কেননা HDD হোস্টিং এর থেকে SSD পুষ্টির অনেক দ্রুত গতি হয়। 


২) Free SSL: অনেক হোস্টিং কোম্পানি আছে পোস্টিং এর সাথে SSL দেয় না।SSL আপনার ওয়েবসাইটের সুরক্ষা বাড়িয়ে দেয়। তাই হোস্টিং নেওয়ার আগে চেক করে নেন আপনাকে SSL দিচ্ছে কিনা। 


৩) আপটাইম:  একটি ওয়েবসাইটের জন্য হোস্টিং এ হাফ টাইম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  হোস্টিং নেওয়ার সময় দেখে নেন আপনাকে আপটাইম  99.9% দিচ্ছে কিনা। 


৪) 24/7 Support : আপনি হোস্টিং নেওয়ার পর , আপনার ওয়েবসাইটে হোস্টিংয়ের যেকোনো সমস্যা হতে পারে। তাই হোস্টিং নেওয়ার সময় দেখে নেন আপনার নির্দিষ্ট কোম্পানিটি লাইভ চ্যাট ও   সাপোর্ট টিকেট ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে কিনা। 




ফ্রি Domain ও Hosting কি ভালো?


ফ্রি Domain ও Hosting শেখার জন্য ছোট প্রজেক্ট বা  অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য খুব ভালো কিন্তু প্রফেশনাল ব্লগিংয়ের জন্য ভালো নয়। আপনি যদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য ওয়েবসাইট তৈরির  করে থাকুন তাহলে প্রিমিয়াম হোস্টিং ও ডোমেইন কিনা ভালো। 


ফ্রি Domain


 আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে শেখার কাজের জন্য আপনি ফ্রি ডোমেইন নিতে পারেন। Freenom থেকে এক বছরের ফ্রি ডোমেইন নেওয়া যায়। যেমন : . ga  . cf  , gq ইত্যাদি।


ফ্রি Hosting


আন্তর্জাতিক কিছু প্লাটফর্ম আছে যেখানে আপনি বিনামূল্যে ফ্রি Hosting পাবেন। আপনি যদি নিজের স্কিল বাড়াতে বা শেখার জন্য এই ফ্রি হোস্টিং নেন তাহলে ভালো কিন্তু আপনি যদি  একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান এবং ওয়েবসাইট থেকে  ইনকাম করতে চান  তাহলে পেইড ডোমেইন ও পেইড  হোস্টিং নেওয়াই ভালো।



নতুনদের জন্য সেরা পরামর্শ :


আপনি যদি এই কাজে নতুন হয়ে থাকুন  এবং ভবিষ্যতে এই ওয়েবসাইটকে প্রফেশনাল হিসেবে ব্যবহার করতে চান এবং ইনকাম করতে চান  তাহলে কিছু পরামর্শ দেখে। 



প্রথমে আপনি যেকোনো এক প্লাটফর্ম থেকে. Com ডোমেন কিনুন। হোস্টিং এর ক্ষেত্রে আপনি Shared হোস্টিং বাছাই করুন। wordpress দিয়ে শুরু করুন কেননা এটি একদম সহজ। প্রয়োজনীয় সব Tools ও Plagin   আপনার হাতের কাছে এভাবে শুধুমাত্র ইন্সটল করুন আর একটিভ করে কাজ চালিয়ে যান। আপনার ফাইলগুলো ডেইলি Backup রাখুন। SSL   সার্টিফিকেট অন রাখুন যাতে করে আপনার ওয়েবসাইটটি সুরক্ষিত থাকে 



Faqs


প্রশ্ন: Domain কি?

👉দমে হলো একটি ওয়েবসাইটের নাম বা ঠিকানা। 


প্রশ্ন: Hosting কি?

👉 হোস্টিং  হল একটি ওয়েবসাইটের জায়গা যেখানে একটি ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট  রাখা হয়।  


প্রশ্ন: SSL কি?

👉 SSL হলো ওয়েবসাইট কে নিরাপত্তা দেয়। আপনার ওয়েবসাইট যদি দিয়ে https:// দেখা যায় তাহলে বুঝবেন আপনার ওয়েবসাইটটি ফ্রি https:// নিরাপদে আছে। 


প্রশ্ন: cPanel কি?

👉 cPanel হল হোস্টিং পরিচালনা করার কন্ট্রোল প্যানেল। এই cPanel দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের ছবি আপলোড,  ডকুমেন্ট আপলোড ও ডাটাবেজ তৈরি করা হয়। 


উপসংহার 


ডোমেইন ও হোস্টিং হল  একটি ওয়েবসাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়। ডোমেইন হলো একটি ওয়েবসাইটের নাম বা ঠিকানা, হোস্টিং  হলো একটা ওয়েবসাইটে জায়গা যেখানে ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট থাকে। একটি ভালো ডোমেইন ও হোস্টিং নির্বাচন করতে পারলে আপনার ওয়েবসাইট দ্রুত,  সহজ ও নির্ভরযোগ্য হবে। তাই একটি ভাল মানের  ওয়েবসাইট তৈরি করার আগে ডোমেইন  ও হোস্টিং সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা আবশ্যক। 

 




মন্তব্যসমূহ